পাবনা জুড়ে

মরেযাওয়াখালগুলোপ্রাণফিরেপেলেগ্রামীণঅর্থনীতিবদলেযাবে: পাবনায় প্রতিমন্ত্রীপুতুল

প্রকাশিত: ৭:৫১ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২৬, হালনাগাদ: ৭:৫১ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি :

মরে যাওয়া খালগুলো পানিপ্রবাহ ফিরে পেলে দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রামীণ জনগণের ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। তিনি বলেন, কৃষি ও কৃষক আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। এই খালগুলো পুনর্জীবিত হলে ভূ-উপরিস্থ পানির প্রাপ্যতা বাড়বে, যা খরা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে সহায়ক হবে এবং বদলে যাবে গ্রামীণ অর্থনীতি।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের মন্ডলপাড়ায় পদ্মাকোল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সরকার গঠনের এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই বাস্তবায়ন শুরু করেছে বিএনপি সরকার। আমরা অত্যন্ত ক্রান্তিলগ্নে দায়িত্ব পেয়েছি, তবুও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, মসজিদ-মন্দিরের ইমাম ও পুরোহিতদের সম্মানি ভাতা এবং কৃষি ঋণ মওকুফের মতো বড় উদ্যোগগুলো ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই আমরা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

  প্রতিমন্ত্রী বলেন, যারা শেকড় ভুলে যায়, তাদের উপড়ে ফেলতে বার বার ৫ আগস্ট ফিরে আসে। অনেকে প্রশ্ন করেন আমরা কেন মাঠে-ঘাটে খাল খনন করছি? তাদের বলতে চাই—আমাদের শেকড় ভুলে গেলে চলবে না। উন্নয়নের জন্য সদিচ্ছাই যথেষ্ট, যা আমাদের সরকারের রয়েছে।

ফারজানা শারমিন পুতুল আরও উল্লেখ করেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এক সময় খাল খননের মাধ্যমে দেশে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। তাঁর সেই দর্শনকে ধারণ করে জননেতা তারেক রহমান এবার খালগুলোকে পুনর্জীবনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এই কর্মসূচির আওতায় আজ সারাদেশে ৫৪টি খাল খনন শুরু হচ্ছে।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে মন্ডলপাড়া থেকে নাজিরপুর পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খনন করা হবে। ৬ ফুট গভীর এবং গড়ে ৪০ ফুট প্রশস্ত এই খালটি পাবনা শহরের ইছামতী নদীতে গিয়ে মিশেছে। খনন সম্পন্ন হলে পদ্মা থেকে ইছামতীতে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং হেমায়েতপুর ইউনিয়নের বিশাল কৃষিজমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে।  

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, কৃষি উৎপাদন ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য মরে যাওয়া খালগুলো খনন করা জরুরি। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, কাজ যেন শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়।

পাবনা জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবিব, পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার এবং পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার ও সেক্রেটারি জহুরুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

ADVERTISEMENT(970X90)

আরও পড়ুন