পাবনা জুড়ে
সুজানগরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ: আরও একজনের মৃত্যু, আটক ১২
পাবনা প্রতিনিধি
পাবনার সুজানগরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই সংঘাতের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো দুইজনে। সর্বশেষ নিহত ব্যক্তির নাম মুনছুর খাঁ (৬০)। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুনছুর খাঁ মারা যান। তিনি সুজানগর উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত জয়নাল শেখের ছেলে। এর আগে গত সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে ঘটনাস্থলেই চায়না খাতুন (৪০) নামে এক গৃহকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উপজেলার হাটখালীর রাফিউল ইসলাম রাজা গ্রুপের সাথে মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা গ্রামের ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। গত রোববার (২২ মার্চ) দিবাগত রাতে দুই পক্ষের তরুণদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে সোমবার সকাল থেকেই এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকাল ৮টার দিকে ইসলাম প্রামাণিক গ্রুপের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকায় জড়ো হতে থাকে। এ সময় রাজা গ্রুপের সমর্থকরা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ব্যাপক গুলিবর্ষণ ও বাড়িঘর ভাঙচুর করে। এ সময় প্রতিপক্ষের গুলিতে ঘটনাস্থলেই মারা যান শুকুর আলীর স্ত্রী চায়না খাতুন। এছাড়া উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকেই মুনছুর খাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছিল।
ভুক্তভোগী পক্ষের ইসলাম প্রামাণিক বলেন, আমার ভাগ্নে ফরহাদকে রোববার রাতে ওরা মারধর করে। আমি মীমাংসা করতে গেলে আমাকেও মারে। সোমবার সকালে মুরুব্বিদের নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় রাজার নেতৃত্বে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদের গুলিতেই দুজন প্রাণ হারালো।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রাফিউল ইসলাম রাজা বলেন, আমি ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানি না। ওই সময় আমি এক আত্মীয়ের বিয়ের দাওয়াতে এলাকায় বাইরে ছিলাম। আমাকে ফাঁসাতে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে।
সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফইম উদ্দিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দ্বিতীয় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মুনছুর খাঁ বিকেলে হাসপাতালে মারা গেছেন। এই ঘটনায় ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাদিক আহমেদ জানান, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। হামলার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মামলার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
