বিনোদন

পর্যটনের অপার সম্ভাবনা পাবনার ‘বেড়া পোর্ট’: জঞ্জাল আর অযত্নে ম্লান হচ্ছে বিনোদনপ্রেমীদের আনন্দ 

প্রকাশিত: ১০:৩৭ পিএম, ২৪ মার্চ ২০২৬, হালনাগাদ: ১০:৩৭ পিএম, ২৪ মার্চ ২০২৬

পাবনা জেলায় ঈদ বিনোদনের জন্য মানসম্মত কোনো স্থায়ী কেন্দ্র না থাকায় যমুনা নদীর শাখা হুরাসাগর নদের পাড় ‘বেড়া পোর্ট’ এলাকাটি হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের অন্যতম ভরসা। নাম হুরাসাগর হলেও বর্ষায় এর রূপ দেখে কুয়াকাটা বা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের আমেজ খুঁজে পান দর্শনার্থীরা। তবে সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে একসময়ের আশাজাগানিয়া এই পর্যটন কেন্দ্রটি এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ আর দুর্গন্ধে দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিনোদনপ্রত্যাশীরা চরম হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন।

পাবনার বেড়া পৌর এলাকার ডাকবাংলো সংলগ্ন এই পোর্ট এলাকাটি মূলত একটি পরিত্যক্ত নৌঘাট। ২০০৬ সালে নৌবন্দর পুনরুজ্জীবিতকরণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পাউবো ২৭৫ মিটার দীর্ঘ এই ঘাটটি নির্মাণ করে। পরবর্তীতে প্রকল্পটি বাতিল হলেও সিঁড়ির মতো বাঁধানো ঘাটটি স্থানীয়দের কাছে ভ্রমণের প্রিয় স্থান হয়ে ওঠে।

বর্তমানে এখানে নাগরদোলা, চরকি, শিশুদের রাইড ও ভাসমান রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে। ভরা বর্ষায় ঘাটে বাঁধা থাকে অর্ধশতাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও প্লাস্টিকের প্যাডেল বোট। বেড়া উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে হাজারো মানুষ এখানে সপরিবারে সময় কাটাতে আসেন।

ঈদ বিনোদনে হতাশার চিত্রপাবনায় ঈদ বা উৎসবে ঘোরার মতো জায়গার তীব্র সংকট দীর্ঘদিনের। ফলে ঈদের ছুটিতে বেড়া পোর্টে মানুষের ঢল নামে। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘাটের সিঁড়ি ও আশপাশের বেশির ভাগ জায়গা খড়ের পালা, গোবরের ঘুঁটে আর পচা আবর্জনায় ঠাসা।

স্থানীয়দের মতে, পাবনা জেলায় শিশুদের উপযোগী পার্ক বা প্রাকৃতিক বিনোদন কেন্দ্রের অভাব পূরণে ‘বেড়া পোর্ট’ হতে পারে শ্রেষ্ঠ বিকল্প। সরকারিভাবে এই বিশাল নৌঘাটকে সংস্কার করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করলে হুরাসাগর নদের পাড় হতে পারে  অন্যতম  পর্যটন আকর্ষণ। তবে আপাতত পৌরসভার উদাসীনতা আর আবর্জনার স্তূপ সেই সম্ভাবনাকে ম্লান করে দিচ্ছে।

বেড়া পৌর এলাকার দক্ষিণপাড়া থেকে আসা রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বড় মুখ করে আত্মীয়দের নিয়ে এখানে বেড়াতে এসেছিলাম। কিন্তু ময়লা-আবর্জনা আর দুর্গন্ধে বেশিক্ষণ টিকতে পারিনি। সবাই খুব হতাশ হয়েছি।

ঈদের মৌসুমে অস্থায়ী ফুচকা বিক্রেতা আফজল হোসেন জানান, বসার জায়গাগুলো আবর্জনায় ভরা। আমরা ব্যবসায়ীরা যতটুকু পেরেছি পরিষ্কার করেছি, কিন্তু তাতে মানুষের মন ভরছে না। পরিবেশ খারাপ হওয়ায় এবার বেচাকেনাও অনেক কম।

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থেকে আসা সাগর হোসেন বলেন, আশপাশে বেড়ানোর ভালো জায়গা নেই বলে এখানে আসি। এখানে সমুদ্রসৈকতের আমেজ পাওয়া যায়। যদি সরকার এটাকে স্থায়ী পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলে, তবে আমাদের মতো বিনোদনপ্রেমীদের জন্য খুব ভালো হতো।

বেড়ায় কর্মরত চাকরিজীবী আব্দুল ওয়াহাব ও কলেজ শিক্ষক এইচএম আহসান উদ্দিন মাসুম জানান, বিনোদনের জায়গার খুব অভাব বলে তারা পরিবার নিয়ে এখানে আসেন। তাদের দাবি, নদী খনন করে সারা বছর পানিপ্রবাহ ধরে রাখতে পারলে এটি একটি আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হতে পারে, যা স্থানীয় অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

পোর্ট এলাকাটির অপরিচ্ছন্ন অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বেড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজুল আলম বলেন, আমরা এলাকাটি জঞ্জালমুক্ত করার পদক্ষেপ নিয়েছি। শ্রমিক সংকটের কারণে কাজে কিছুটা দেরি হচ্ছে, তবে দ্রুতই এলাকাটি পরিষ্কার করা হবে।

  বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার   রুনাল্ট চাকমা  জানান, প্রশাসনিক নজরদারি ও কঠোর নিরাপত্তার কারণে দর্শনার্থীরা এখানে স্বাচ্ছন্দে বিচরণ করতে পারছেন।

ADVERTISEMENT(970X90)

আরও পড়ুন