চাটমোহর

চাটমোহরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুইগ্রæপের সংঘর্ষ, আহত-৮

প্রকাশিত: ৯:০২ পিএম, ২৬ জুন ২০২৬, হালনাগাদ: ৯:০২ পিএম, ২৬ জুন ২০২৬

মোঃ নূরুল ইসলাম, চাটমোহর (পাবনা)

পাবনার চাটমোহরে আধিপত্য বিস্তারের জেরে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত ৫ জনকে হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার হরিপুর বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে হরিপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ও ৪ নাম্বার ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য, সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাবলুর রহমান (৪৮), ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান (৪০), ৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল মজিদ (৫৭), ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত হোসেন (২৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ও ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি বাবলুর রহমান গ্রæপের মধ্যে বেশকিছুদিন ধরে বিরোধ চলছে। বৃহস্পতিবার রাতে হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে সন্ত্রাস, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে একটি মিটিং করছিলেন ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি বাবলুর রহমান গ্রæপের নেতাকর্মীরা। এ সময় ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে তার লোকজন আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ। এ সময় সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়। তাদের মধ্যে বাবলু গ্রæপের বাবলু, মিজান, মজিদ সহ ৫ জন এবং সিরাজ গ্রæপের রাহাতসহ ৩ জন আহত হয়। তাদের চাটমোহর ও বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহত বাবলুর রহমান বলেন, আমরা দলীয় ও দেশ প্রধান তারেক রহমানের নির্দেশে নিজেদের এলাকাকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী ও মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে চাই। এটা সহ্য করতে পারছেন না ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সেক্রেটারী সিরাজুল ইসলাম। তার সাথে আমাদের পূর্ববিরোধ রয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজে আমাদের বাধার সৃষ্টি করে আসছেন। তারা হরিপুরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক কারবারের সাথে জড়িত। তার প্রতিবাদ করায় তাদের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে আমাদের শান্তিপূর্ন সভায় সিরাজের নেতৃত্বে আমাদের উপর হামলা করা হয়।

হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমার নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। কারণ ঘটনার সময় হরিপুর বাজারেই ছিলাম না। পরে শুনেছি এলাকার কিছু দলীয় লোকের সাথে তাদের আগের ঝামেলার রেশ ধরে মারামারি হয়েছে। এখানে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নাই। এখন সবাই বিএনপি করে। তাদের মধ্যে আমার সমর্থক লোকজন থাকতে পারে।

এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউর রহমান জানান, বিএনপির দুই গ্রæপের মারামারির বিষয়টি আমরা জানার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি ও আহতদের সাথে কথা বলেছি। তাদের অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ADVERTISEMENT(970X90)

আরও পড়ুন