ঈশ্বরদী

ঈশ্বরদীতে মধ্যরাতে দাদিকে হত্যার পর নাতনিকে ধর্ষণ ও খুন

প্রকাশিত: ২:৩৭ পিএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, হালনাগাদ: ২:৪৯ পিএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

পাবনার ঈশ্বরদীতে মধ্যরাতে ঘর থেকে তুলে নিয়ে নাতনিকে ধর্ষণ ও হত্যার পর দাদিকেও নৃশংসভাবে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়া গ্রাম থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।  শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতের কোনো এক সময়   এ ঘটনা ঘটে৷ নিহতরা হলেন— ভবানিপুর উত্তরপাড়ার মৃত নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৬৫) এবং তার নাতি ও জয়নাল খাঁর মেয়ে জামিলা আক্তার (১৫)। নিহত জামিলা স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল বলে জানা গেছে।

 পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে ওই বাড়িতে হঠাৎ কান্নাকাটির শব্দ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। তবে কিছু সময় পর শব্দ থেমে যাওয়ায় কেউ আর খোঁজ নিতে যাননি। শনিবার সকালে স্থানীয়রা বাড়ির উঠানে সুফিয়া বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

এদিকে, ঘরের ভেতরে নাতনি জামিলাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি সরিষা ক্ষেতে জামিলার বিবস্ত্র ও রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। স্থানীয়দের ধারণা, মেয়েটিকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।

নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, জামিলার বাবা- মায়ের মধ্যে কিছুদিন আগে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকে সে তার  দাদির কাছে থাকত। তাদের ধারণা  জামিলাকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা  ঘরে ঢোকে। দুর্বৃত্তরা জামিলাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। ঘটনাটি দেখে ফেলায় পরে দাদিকেও হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। 

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি) মো. মমিনুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।  ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুজনের মাথাতেই আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভারি কোনো বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাদের হত্যা করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ শুরু করেছে। দ্রুতই ঘটনার রহস্য উন্মোচন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত  ঈশ্বরদী থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছিল। 

ADVERTISEMENT(970X90)

আরও পড়ুন