পাবনা জুড়ে
বিলের কঙ্কালে প্রাণের স্পন্দন: সাঁথিয়ায় তাজরী কমিউনিকেশনের ব্যতিক্রমী ইফতার আয়োজন
নিজস্ব প্রতিবেদক
নগরের যান্ত্রিকতা আর চার দেয়ালের বন্দি জীবন ছেড়ে একটু প্রশান্তির খোঁজে মানুষ এখন ছুটছে প্রকৃতির টানে। সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আর-আতাইকুলা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ‘বিল গ্যারকা’-র পাড়ে এক ব্যতিক্রমী ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে পাবনার অন্যতম বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান তাজরী কমিউনিকেশন লিমিটেড।
পড়ন্ত বিকেলের স্নিগ্ধ বাতাস আর বিলের দিগন্তজোড়া শূন্যতায় সূর্যাস্তের আভা—সব মিলিয়ে ইফতারের এই মুহূর্তটি হয়ে উঠেছিল এক অনন্য ও নান্দনিক অভিজ্ঞতা।

গতানুগতিক রেস্টুরেন্ট বা আধুনিক আলোকসজ্জার পরিবর্তে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে এই ইফতারের আয়োজন করা হয়। কোনো কৃত্রিমতা নয়, বরং খোলা আকাশের নিচে পাটি বিছিয়ে এক কাতারে বসে ইফতারে অংশ নেন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়রা।

আয়োজনে অংশ নিয়ে তাজরী কমিউনিকেশনের কর্মী মারুফ বলেন: শহরের জ্যাম আর বদ্ধ পরিবেশে ইফতার করতে করতে আমরা ক্লান্ত। বিলের পাড়ে খোলা বাতাসে ইফতার করাটা মানসিক প্রশান্তি দিচ্ছে। এটি আমাদের শিকড়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।
পাবনার বিখ্যাত বিল গাজনা সংলগ্ন এই বিল গ্যারকা বর্ষায় যা বিশাল জলরাশি নিয়ে নদীর রূপ ধারণ করে, বর্তমানে তা পানিশূন্য হয়ে অনেকটা ‘বিলের কঙ্কাল’ হিসেবে পড়ে আছে। সেই হারানো ঐতিহ্যের টানেই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব আ. রহিম বাবু তার দলবল নিয়ে ছুটে গিয়েছেন এই নিভৃত পল্লীতে।

ব্যতিক্রমী এই আয়োজনের মূল পরিকল্পনাকারী আলহাজ্ব আ. রহিম বাবু বলেন, “বিলাসিতা নয়, আমাদের উদ্দেশ্য ছিল ঐতিহ্য আর প্রকৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা। প্রকৃতির কাছে ছুটে গেলে স্বদেশপ্রেম এবং ইবাদত—উভয়ই সার্থক হয়।” তিনি আরও যোগ করেন: “এই বিল গেড়কাটি নিয়ে যদি উপযুক্ত পরিকল্পনা করা হয়, বিলের পাড় বেঁধে দিয়ে বসার ব্যবস্থা করা যায়, তবে এটি একটি অপরূপ নৈসর্গিক পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এটি হবে এক দারুণ গন্তব্য।”
