ঈশ্বরদী

ঈশ্বরদীতে দাদি-নাতনি হত্যা: ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন, ঘাতক চাচা গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ৮:৩৯ পিএম, ১ মার্চ ২০২৬, হালনাগাদ: ৮:৩৯ পিএম, ১ মার্চ ২০২৬

 ঈশ্বরদী( পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদি ও নাতনিকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের আপন খালোতো ভাই ও সম্পর্কে চাচা শরিফুল ইসলামকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শরীফ যৌন হয়রানি ও পরবর্তীতে আক্রোশ থেকে এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে।

পাবনা জেলা ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল ইসলাম জানান, তথ্য-প্রযুক্তি ও স্থানীয় তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাতে ভবানীপুর উত্তরপাড়া এলাকা থেকে শরিফুলকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে শরীফ জানায়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি জামিলাদের বাড়িতে বাজার পৌঁছে দিতে গিয়ে সে কিশোরী জামিলাকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করে। সে সময় জামিলা তাকে চড় মারে এবং ঘর থেকে বের করে দেয়। এই অপমানের প্রতিশোধ নিতেই সে হত্যার পরিকল্পনা করে।

রোববার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে শরীফ তার খালা সুফিয়া খাতুনের বাড়িতে যায় এবং জামিলার সাথে দেখা করতে চায়। সুফিয়া খাতুন বাধা দিলে শরীফ ক্ষিপ্ত হয়ে পাশে থাকা কাঠের বাটাম দিয়ে বৃদ্ধার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে তিনি নিস্তেজ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পুলিশ সুপার আরও জানান, দাদিকে বাঁচাতে নাতনি জামিলা চিৎকার শুরু করলে শরীফ তাকেও আঘাত করে এবং অচেতন অবস্থায় টেনেহিঁচড়ে পাশের একটি সরিষাক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে জামিলা জ্ঞান ফিরে পেয়ে আবারও চিৎকার করার চেষ্টা করলে শরীফ হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর তাকে ধর্ষণ করে মরদেহ বিবস্ত্র অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

এর আগে শুক্রবার মধ্যরাতের পর ওই বাড়িতে কান্নাকাটির শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা বের হলেও পরে পরিস্থিতি শান্ত দেখে ফিরে যান। পরদিন শনিবার সকালে বাড়ির উঠানে বৃদ্ধা সুফিয়া বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা। এ সময় নাতনি জামিলাকে খুঁজে না পেয়ে চারদিকে তল্লাশি শুরু হলে কিছু দূরে সরিষাক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত সুফিয়া খাতুন (৬৫) ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত নাজিম উদ্দিন খাঁর স্ত্রী এবং জামিলা আক্তার (১৫) স্থানীয় কালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর ছাত্রী ও হাফেজা ছিল। জামিলার বাবা জয়নাল খাঁ কাজের প্রয়োজনে অধিকাংশ সময় ঢাকার সাভারে থাকায় দাদি-নাতনি বাড়িতে একসাথেই থাকতেন।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত শরীফের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় জামিলার বোন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আজ আদালতে সোপর্দ করা হবে

ADVERTISEMENT(970X90)

আরও পড়ুন