ঈশ্বরদী

 ঈশ্বরদীতে ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে ও গুলি করে  হত্যা

প্রকাশিত: ৭:৪৯ এএম, ৩ এপ্রিল ২০২৬, হালনাগাদ: ৭:৪৯ এএম, ৩ এপ্রিল ২০২৬

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

 পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে ইমরান হোসেন সোহাগ (২৭) নামে এক ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে    ঈশ্বরদী পৌর এলাকার সাঁড়া গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ও রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত ইমরান হোসেন সোহাগ সাঁড়া গোপালপুর এলাকার ইমানুল হকের  প্রামাণিকে এর ছেলে। তিনি ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের প্রস্তাবিত কমিটির সদস্য সচিব এবং জিয়া সাইবার ফোর্সের ঈশ্বরদী উপজেলা শাখার সদস্য সচিব ছিলেন। এছাড়া তিনি  বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা জাকারিয়া পিন্টুর একজন সক্রিয় সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

  পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে সোহাগ তার বন্ধুদের নিয়ে সাঁড়া গোপালপুর রেললাইনের পাশে একটি চায়ের দোকানে   আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় পাকশির তালতলা এলাকার দিক থেকে মুখ ঢাকা ১০-১২ জনের একদল দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলযোগে সেখানে আসে। তারা অতর্কিত গুলিবর্ষণ শুরু করলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোহাগ আত্মরক্ষার্থে পাশের একটি ধানক্ষেতের দিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু দুর্বৃত্তরা তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।   ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মাথার একটি অংশ ছিন্নভিন্ন হয়ে মগজ বের হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

  খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে   জানান,    প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে কুপিয়ে এবং গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোমিনুজ্জামান জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে।যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 এদিকেএই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর সাঁড়া গোপালপুর ও ঈশ্বরদী পৌর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।   স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

ADVERTISEMENT(970X90)

আরও পড়ুন