পাবনা জুড়ে
পাবনা প্রেসক্লাবে মতবিনিময় সভায় তথ্য মন্ত্রী
গণমাধ্যমে কোনো তথ্য প্রচারের আগে সত্যতা যাচাই অপরিহার্য
নিজস্ব প্রতিনিধি
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যমে কোনো তথ্য প্রচারের আগে তার সত্যতা যাচাই বা ফ্যাক্ট-চেকিং’ অপরিহার্য। শুক্রবার রাতে পাবনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, “ধারণা বা অনুমানের ওপর ভিত্তি করে কোনো কিছুকে তথ্য হিসেবে গণ্য করা যাবে না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্যের পাহাড় থাকলেও গণমাধ্যমে বস্তনিষ্ঠতা বজায় রাখতে কঠোরভাবে তথ্য যাচাই করতে হবে।”তিনি বলেন, ভুয়া খবর বা ফেক নিউজ নির্মূলে ডিজিটাল রেগুলেশনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সরকার একটি প্রাতিষ্ঠানিক ফ্যাক্ট-চেকিং কাঠামো তৈরির কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, “গণমাধ্যম যদি সঠিক যাচাইকরণ নিশ্চিত করে, তবে সমাজ থেকে গুজব ও মিথ্যা সংবাদ দূর করা সম্ভব হবে।”
পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার এর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক শিবজিত নাগ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, পাবনা প্রেস ক্লাবের সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এ বি এম ফজলুর রহমান, প্রেসক্লাবের সাবেক সম্পাদক আব্দুল মতীন খান, সাবেক সম্পাদক আঁখিনুর ইসলাম রেমন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফটোগ্রাফার খালেদ হোসেন পরাগ, প্রেসক্লাবের সাবেক সম্পাদক উৎপল মির্জা, সাংবাদিক রাজিউর রহমার রুমী ও ড. নরেশ চন্দ্র মধু প্রমুখ।
তথ্য মন্ত্রী ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী পাবনা প্রেসক্লাবের গণতান্ত্রিক চর্চা, আদর্শ এবং সদস্যদের পেশাদারিত্বের ভুয়শী প্রশংসা করে বলেন, পাবনা প্রেসক্লাব দেশের মধ্যে একটি মডেল। এ প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের ভাতৃপ্রতিম সম্পর্ক সারা দেশের দৃষ্টান্ত হতে পারে। রাত সাড়ে ৮টায় তথ্য মন্ত্রী ক্লাব চত্বরে এসে পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার ও সাধারন সম্পাদক জহুরুল ইসলাম তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত তিনি ক্লাবে অবস্থান করেন। এর আগে শুক্রবার বিকেলে তথ্যমন্ত্রী পাবনা জিলা স্কুলের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং সন্ধ্যায় স্বাধীনতা চত্বরে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংগঠন (জাসাস) আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী বইমেলার উদ্বোধন করেন। সেখানে মন্ত্রী বলেন, আমরা গণমাধ্যমকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। গণমাধ্যমের ওপর নির্যাতনের যে ইতিহাস তা ফ্যাসিবাদের কর্মকাণ্ডের অঙ্গ। আমরা গণতান্ত্রিক আন্দোলন করে ফ্যাসিবাদকে উৎখাত করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে গণমাধ্যমের অধিকার এবং স্বাধীনতা যারা চর্চা করেছেন সেই গণমাধ্যম কর্মীদের নির্যাতনের যে অপরাধ তা আমরা তামাদি হতে দিবো না। এই অপরাধকে চিহ্নিত করতে আমরা সাংবাদিক প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে ইতোমধ্যেই তালিকা তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছি।
