পাবনা জুড়ে
হামের হটস্পট পাবনায় আক্রান্ত ৫৬: আজ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন স্বাস্থ্য সচিব
- মোট নমুনা পরীক্ষা: ১৬৭টি (পজিটিভ ৫৬টি)
- নতুন নমুনা পাঠানো হয়েছে: ৪০টি
- হাসপাতালে ভর্তি: ১৭৩ জন (গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ জন)
- মৃত্যু: ২ জন (গত তিন মাসে)।
- টিকাদান শুরু: ৫ এপ্রিল (রোববার)
বিশেষস প্রতিনিধি
দেশের কয়েকটি জেলার সাথে পাবনা জেলাকেও এখন হামের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেলায় গত তিন মাসে ১৬৭টি নমুনা পরীক্ষায় ৫৬ জনের শরীরে হামের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে দুই শিশু। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আজ রোববার থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।
পাবনা জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার পর্যন্ত সেখানে ১৭৩ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে আরও ৫ জন। রোগীর চাপ সামলাতে হাসপাতালে বর্তমানে দুটি আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।
পাবনার সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, গত তিন মাসে ১৬৭টি নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল, যার মধ্যে ৫৬টি পজিটিভ এসেছে। আরও ৪০টি নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, যার রিপোর্ট পেতে সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তিনি আরও জানান, পাবনা পৌরসভা ও সদর এলাকায় সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি।
তবে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, আমরা নমুনা সংগ্রহ বেশি করেছি বলেই পজিটিভ কেস বেশি ধরা পড়ছে। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে নেই এবং প্রাদুর্ভাব ধীরে ধীরে কমে আসছে।
রোববার থেকে শুরু হওয়া বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী উপস্থিত থেকে পাবনা সদর উপজেলার চর ঘোষপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। নিয়মিত টিকার বাইরে যারা বাদ পড়েছে, তাদের খুঁজে বের করে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
এদিকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান জানান, হাসপাতালে শয্যা সংকট প্রকট। ৩৮ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে প্রতিদিন গড়ে দুই শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। জায়গার অভাবে অনেক শিশুকে আইসোলেশন ইউনিটের মেঝেতে রেখে সেবা দেওয়া হচ্ছে। পর্যাপ্ত ওষুধ ও সেবা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
