চাটমোহর
স্কুলমাঠে মাদকাসক্ত যুবকের ‘ছুরিকাণ্ড’: আতঙ্কে জ্ঞান হারালো ছাত্রীরা, অভিযুক্তআটক
চাটমোহর(পাবনা) প্রতিনিধি
পাবনার চাটমোহরে ছাত্রীদের ফুটবল খেলার ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়ায় সরোয়ার হোসেন নয়ন(৩২) নামের এক মাদকাসক্ত যুবকের বিরুদ্ধে ছুরি নিয়ে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের চড়ইকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত নয়ন উপজেলার হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি কফিল উদ্দিনের ছেলে।
জানা গেছে, বুধবার বিকেলে বিদ্যালয় মাঠে ছাত্রীদের ফুটবল খেলার অনুশীলন চলছিল। এ সময় নয়ন সেখানে প্রবেশ করে মোবাইলে ছাত্রীদের ভিডিও করতে শুরু করেন। শিক্ষার্থীরা ভিডিও করতে নিষেধ করলে নয়ন তাদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। শিক্ষকরা বাধা দিতে গেলে তিনি বাজার থেকে ধারালো ছুরি, কাঁচি ও শিকল নিয়ে তাদের ধাওয়া করেন। নয়নের তাণ্ডবে পুরো স্কুলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা প্রাণভয়ে দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করে। শিক্ষকরা দ্রুত শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ঢুকিয়ে দিয়ে প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এ সময় ভয়ে ও আতঙ্কে বেশ কয়েকজন খুদে শিক্ষার্থী স্কুলের ভেতরেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উত্তেজিত জনতা নয়নকে আটকের দাবিতে পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে চড়ইকোল বাজার থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করে।
সহকারী শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, ‘মেয়েরা ভিডিও করতে নিষেধ করায় সে প্রথমে লাঠি ও পরে ছুরি নিয়ে হামলা করে। শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে আমরা গেটে তালা লাগিয়ে দেই। আতঙ্কে আমাদের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল।’
চাটমোহর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল গণি বলেন, ‘বিষয়টি জানার পরপরই পুলিশকে জানানো হয়েছে। পুলিশ গিয়ে পরিবেশ শান্ত করেছে। তবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে।’
অভিযুক্ত নয়নের বাবা ও বিএনপি নেতা কফিল উদ্দিন বলেন, ‘আমার ছেলেকে প্রতিপক্ষর লোকজন মাদক খাইয়ে এই অবস্থা করে দিয়েছে। আমি তাকে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। আইনগতভাবে যেটা হয় সেটাই হোক।’
চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত নয়নকে আটক করে। ভুক্তভোগী শিক্ষকদের এজাহার দিতে বলা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
