পাবনা জুড়ে

শিক্ষার্থীদের চুলের স্টাইল নির্ধারণ করে নোটিশ: তোলপাড়

প্রকাশিত: ৫:৩৪ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০২৬, হালনাগাদ: ৫:৩৮ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০২৬

সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি
পাবনার সাঁথিয়ায় একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের চুলের কাটিং সুনির্দিষ্ট করে দিয়ে নোটিশ জারি করা হয়েছে। এমনকি কী স্টাইলে চুল কাটতে হবে, তার নমুনা ছবিও টাঙিয়ে দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো উপজেলায় ব্যাপক তোলপাড় ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবকরা এই সিদ্ধান্তকে ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ ও বাড়তি মানসিক চাপ হিসেবে দেখছেন।
গত বৃহস্পতিবার ৯ এপ্রিল সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদ উচ্চ বিদ্যালয়ের দেওয়ালে প্রধান শিক্ষক মো. লিটন উদ্দিন স্বাক্ষরিত ওই নোটিশটি সেঁটে দেওয়া হয়। নোটিশে বলা হয়েছে যে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট মডেলে চুল কেটে এবং নখ পরিষ্কার করে বিদ্যালয়ে আসতে হবে। ওই নোটিশের সঙ্গে একটি শিশুর চারদিক থেকে তোলা ‘আর্মি কাট’ চুলের ছবি যুক্ত করা হয়েছে। নির্ধারিত এই মডেলের বাইরে চুল কাটলে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এই নির্দেশনার প্রশাসনিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পাবনার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাহাতাব উদ্দিন বিশ্বাস। তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলার প্রয়োজন আছে তবে ছাত্রের চুল কতটা ছোট হবে তা কি প্রশাসনিক আদেশে নির্ধারণ করা যায়? তিনি আরও মনে করেন যে এমন সিদ্ধান্ত শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে ক্ষুণ্ণ করছে কি না তা ভেবে দেখা জরুরি।
সাঁথিয়া পৌর সদরের বাসিন্দা আ. করিম এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন যে শৃঙ্খলারও একটা সীমা থাকা উচিত।
অভিভাবক আরিফুল ইসলাম মনে করেন যে শুধু চুল কাটলেই কোনো শিশু সুশিক্ষিত বা ভদ্র হয়ে যায় না। তার মতে শিক্ষা একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং শিশুদের নিজস্ব রুচি ও পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন যে চুল কাটা নিয়ে শাস্তির ভয় দেখানো হলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা চরম মানসিক চাপের মুখে পড়বে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লিটন উদ্দিন এই সিদ্ধান্তের সপক্ষে দাবি করেছেন যে শৃঙ্খলার খাতিরেই তারা এই নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জানান যে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মুখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে ডেকেছিলেন তবে তারা এখনো নোটিশটি প্রত্যাহার করেননি। প্রধান শিক্ষক অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন যে এ কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে আপাতত কোনো সাজা দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সোলায়মান হোসেন জানান যে শিক্ষার্থীরা মার্জিত পোশাকে বিদ্যালয়ে আসবে এটাই স্বাভাবিক। তবে বিশেষভাবে চুল কাটার ব্যাপারে সরকারিভাবে কোনো বাধ্যবাধকতা বা সুনির্দিষ্ট বিধি নেই।
বিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন যে অনেক ছাত্র নিয়মবহির্ভূত বড় চুল রাখে যা দেখতেও দৃষ্টিকটু লাগে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও নিয়মানুবর্তিতা গড়ে তুলতেই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউএনও আরও জানান যে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ও পাবনা জেলা প্রশাসকও ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিয়েছেন।

ADVERTISEMENT(970X90)

আরও পড়ুন