পাবনা জুড়ে
পাবনায় অবৈধ বালু মহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গোলাগুলি, নিহত১
বিশেষ প্রতিনিধি
পাবনা সদর উপজেলার পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মঞ্জু শেখ (৪০) নামের এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার ভাঁড়ারা ও চরতারাপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জোতকাকুরিয়ার কলাবাগান পদ্মার চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মঞ্জু শেখ সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফের ভাতিজা এবং তিনি দলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নিহত মঞ্জু শেখ জোতকাকুরিয়া গ্রামের দারোগ আলী শেখের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে পদ্মার মধ্যচরের ওই এলাকায় একটি পক্ষ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এই বালু মহালের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবারও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। শুক্রবার দুপুরে উভয় পক্ষের লোকজন চরে বালু উত্তোলনের পরিস্থিতি দেখতে গেলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় মাথার পেছনে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান মঞ্জু শেখ। ঘটনার পর স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহতের চাচা ও সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ বলেন, ‘চরে অবৈধভাবে বালু তোলায় আমার ভাতিজা বাধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে গুলি করে হত্যা করে। সে আমাদের দলেরও একজন কর্মী ছিল। আমি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) রেজিনুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বালু কাটাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে মঞ্জু শেখ নামের একজন নিহত হয়েছেন। তার মাথার পেছনের দিকে গুলির আঘাত রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।
